স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে সংসদে সমালোচনার মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সংগ্রহীত

স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে সংসদে সমালোচনার মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে আবারও তোপের মুখে পড়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করতে না পারা, করোনা চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্য খাতে অনিয়মের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করেন বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা।

শনিবার (৩ জুলাই) সংসদের চলতি অধিবেশনের সমাপনী দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এমন সমালোচনা করেন সাংসদরা। সংসদ অধীবেশনে সভাপতিত্ব করেন ড. শিরীন শারমিন।

এ সময় একজন সাংসদ মন্ত্রীকে লজ্জাহীন মন্তব্য করে তার পদত্যাগের দাবি করেন। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সংসদে উপস্থিত ছিলেন না।

বগুড়া-৬ আসনের বিএনপির সাংসদ জি এম সিরাজ অক্সিজেন সরবরাহের ঘাটতির কথা তুলে ধরে বলেন, গত দুইদিনে বগুড়ায় অক্সিজেনের অভাবে ২৪ জন মারা গেছে। কোভিডের জন্য নির্ধারিত মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ২৫০টি বেড রয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউ বেড আছে আটটি। কিন্তু হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা আছে মাত্র দুটি। ফলে বাকি আইসিইউ বেড কোনো কাজেই লাগছে না। এ সময় তিনি প্রতিটি হাসপাতালে ২০টি হাই ফ্লো অক্সিজেন সরবরাহের দাবি জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, ‘উনি বলেছেন, হাসপাতালের চেয়ার, মেশিন চলে না, লোক লাগবে এগুলো তো আপনাদেরকে দেখতে হবে। কিন্তু আপনারা তো দেখেন না। নার্স, ডাক্তার যন্ত্রপাতি লাগলে আপনাদেরকে বলতে হবে। অভিযোগ দিলে তো হবে না। এগুলোর ব্যবস্থা করা হবে।’

জাপার এমপি রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, বুধবার মাস্কের দুর্নীতির কথা বলার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাস্ক কেনা হয়নি বলে দাবি করেন। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের পরিচালক নিজে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বলেছেন, একটি সার্জিক্যাল মাস্ক কেনা হয়েছে ৩৫৬ টাকায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই সত্য জিনিসটা এড়িয়ে গেলেন কেন? এ সময় ফরাজী সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

জাপার আর এক এমপি মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বললেন এক বছরে নাকি অনেক কাজ করেছেন। আজকের খবর আসছে বাংলাদেশের ৩৭টি জেলায় অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালে ৫ জন রোগী অক্সিজেন পায় তো ২০ জন লাইনে থাকে। কেবলমাত্র অক্সিজেনের কারণে যারা ছটফট করে মারা যাচ্ছেন। পত্রিকায় এত লেখালেখি হচ্ছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি একটি হাসপাতালে গিয়ে এগুলো দেখেছেন। তিনি কী করেন? তিনি জুম মিটিং করেন।