১০০১ দিন জেল খেটে মুক্তি, জেলের নির্যাতনেও দমাতে পারেনি সৌদি অধিকারকর্মীকে

সংগ্রহীত

১০০১ দিন জেল খেটে মুক্তি, জেলের নির্যাতনেও দমাতে পারেনি সৌদি অধিকারকর্মীকে

প্রায় তিন বছর জেলে থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন সৌদি আরবের আলোচিত নারী অধিকারকর্মী লুজাইন আল-হাথলুল। সমাজে নারীদের অধিকার রক্ষায় সব সময়েই প্রতিবাদ আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকেন তিনি। পরিবারের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আলজাজিরা।

তার বোন লিনা বুধবার এক টুইটে লেখেন, “লুজাইন বাড়িতে!” সঙ্গে যোগ করেন পারিবারিক ভিডিও কলের স্ক্রিনশট। অন্য বোন আলিয়া আলাদা পোস্টে জানান, তার বোন লুজাইন সৌদি আরবে বাবার বাড়িতে আছেন। লেখেন, এটি তার জীবনের সেরা দিন।

আন্দোলন চালিয়ে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন লুইজান। জেলে নির্মম মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। তা সত্ত্বেও নারীদের অধিকার রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন আজও।

২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর প্রথম গ্রেফতার হন তিনি। নারীদের গাড়ি চালানোয় নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সৌদি আরব যান গাড়ি চালিয়ে। তার কাছে লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও গ্রেফতার করে সৌদি পুলিশ। ৭৩ দিন জেলে ছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে পুরুষ অভিভাবকত্বের বিরুদ্ধে ১৪ হাজার নারী সই সংগ্রহ করে দেশটির বাদশাহ সালমানের কাছে পাঠান। ফের তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারের কোনও স্পষ্ট কারণ জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে নারী এবং সমাজকর্মী হওয়ার জন্যই তাকে গ্রেফতার হতে হয়েছিল বলে মনে করা হয়। ২০১৮ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অপহরণ করা হয় তাকে। সেখান থেকে সৌদিতে নিয়ে গিয়ে গ্রেফতার করা হয় লুইজানকে। তখন থেকেই জেলেই ছিলেন তিনি।

এসব অবশ্য দমাতে পারেনি তাকে। তাকে যতবার গ্রেফতার করা হয়েছে, তত সামাজিক বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন তিনি। আর যত সোচ্চার হয়েছেন তার মুখ বন্ধ করার প্রক্রিয়াও তত নির্মম হয়েছে। তার একটি আন্দোলন বড় সাফল্য পায়। ২০১৮ সালের জুনে নারীদের গাড়ি চালানো থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সৌদি প্রশাসন। জয় হয় নারীদের। লুইজান তখনও জেলবন্দি।

জেলে থাকার সময় তাকে পরিবারের সঙ্গেও দেখা কিংবা কথা বলতে দেওয়া হত না। লুইজানের সঙ্গে আরও কয়েক জন নারী সমাজকর্মী গ্রেফতার হয়েছিলেন। তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। এটা জানতে পেরে জেলেই অনশনে বসেন লুইজান। ৬ দিন অনশনের পর তিনিও পরিবারের সঙ্গে কথা বলার অধিকার ছিনিয়ে নেন। ভিডিও কলে পরিবারের সকলের সঙ্গে কথাও বলেন।

অবশেষে টানা ১০০১ দিন জেলে কাটানোর পর মুক্তি পেয়েছেন লুইজান। তার মুক্তিতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও। 

লুজাইন স্যোশাল মিডিয়ায় বেশ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ২০১৫ সালে ‘টপ হানড্রেড মোস্ট পাওয়ারফুল আরব ওম্যান’-এর তালিকায় স্থান পান তিনি। এ ছাড়া একাধিক তালিকায় এসেছে তার নাম। পেয়েছেন বেশ কিছু পুরস্কার। তিনি স্নাতক করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়া থেকে।