১৯৩ রানের সহজ লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তান

১৯৩ রানের সহজ লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তান

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছে আফগানিস্তান। আজ সোমবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে শুরুতে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আফগান বোলারদের কাছে অনেকটা ধরাশায়ী ছিল সাকিব-তামিমরা। এদিন ১৯ বল বাকি থাকতেই মাত্র ১৯২ রানেই শেষ হয় ইনিংস বাংলাদেশের।

যদিও পাওয়ারপ্লেতে দারুণ খেলছিলেন দুই ওপেনার তামিম ও লিটন। কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পরের ওভারেই সাজঘরে ফিরে গেলেন তামিম। ফজল হক ফারুকির বলে স্টাম্প উপড়ে যায় দেশসেরা ওপেনারের। এ নিয়ে সিরিজের তিন ম্যাচের সবকটিতেই তামিমের উইকেট তুলে নিলেন তরুণ পেসার ফজল হক।

তামিমের আউটের পর লিটনের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে শতরানের গোড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু আজমতউল্লাহর বল রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলেছিলেন সাকিব, বল ব্যাটেও লেগেছিল। কিন্তু এরপর সাকিবের পেছনে এসে, মাটিতে একবার পড়ে আঘাত হানে স্টাম্পে। সাকিবের পর ক্রিজে নেমে বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি মিস্টার ডিফেন্ডেবল মুশফিকুর রহিমও।

আগের ম্যাচে তৃতীয় উইকেটে লিটন দাসের সঙ্গে ২০২ রানের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড গড়েছিলেন মুশফিক। কিন্তু আজ পারলেন না তেমন কিছু। রশিদ খানের ঘূর্ণিতে উইকেটকিপার গুরবাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১৫ বলে মাত্র ৭ রান করেই ফিরে গেছেন। আগের ম্যাচেই খেলেছিলেন ৮৩ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস।

আরেক হতাশার নাম ইয়াসির আলি রাব্বী। চলতি ওয়ানডে সিরিজে অভিষেক হয় তার। তাও নিজের ঘরের মাঠে। তবুও কি দুঃস্বপ্নই হয়ে থাকল তার অভিষেকটা। আজ নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ আসলে তা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি, চার বলে মাত্র ১ রান করে রশিদের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফিরে গেছেন।

চট্টগ্রামের সাগরিকাপাড়ের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে লিটন রব। টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে অন্যতম ভরসা বাঁহাতি এই ব্যাটার। কিন্তু সবশেষ ম্যাচে পারলেও আজ পারলেন না। গ্যালারি স্তব্দ করে দিয়ে ১১৩ বলে ৮৬ রান করে মোহাম্মদ নবীর বলে গুলবাদিন নাঈবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন তিনি।

প্রথম ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গিয়েছিলেন আফিফ। তবে এরপর আর তাকে তেমনরূপে দেখা যাচ্ছে না। দ্বিতীয় ম্যাচে গড়পড়তা ব্যাটিং করলেও আজ দলের বিপর্যয়ে হাল ধরতে পারলেন না তরুণ এ ক্রিকেটার। নবীর দ্বিতীয় শিকার হয়ে ৬ বলে মাত্র ৫ রান করে মুজিবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন।

পরপর উইকেট হারিয়ে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ যখন জুটির খোঁজে ঠিক তখনই ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ যেন মিরাজের রানআউট। মাহমুদউল্লাহ-মিরাজের পর আর স্বীকৃত ব্যাটসম্যান নেই বলে তাদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব ছিল। রানরেট বাড়ানো এবং সেটি করতে হতো উইকেট ধরে রেখেই। এমন জুটিরই শেষটা হলো রানআউটে। ১২ বলে ৬ রান করে ফিরলেন মিরাজ।

মিরাজের রান আউটের পর তাসকিনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরালেন রশিদ খান। রিভিউ নিয়েছিলেন তাসকিন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।