৪৪ সন্তানের জন্ম দেয়ার পর বদমাশ ব্যাটা পালিয়ে যায়

সংগ্রহীত

৪৪ সন্তানের জন্ম দেয়ার পর বদমাশ ব্যাটা পালিয়ে যায়

আফ্রিকার উগান্ডার অধিবাসী মারিয়াম নবট্যানজি বিয়ের পর টানা পাঁচ বার যমজ সন্তানের জন্ম দেবার পর বুঝতে পারেন তার কোন শারীরিক সমস্যা আছে। পরীক্ষা নিরিক্ষার পরে জানতে পারেন তাঁর ডিম্বাশয়ের আকার বেশ বড় এবং তিনি অত্যন্ত ফার্টাইল। কিন্তু কোনও রকম গর্ভনিয়ন্ত্রণের ওষুধ বা অপারেশন তাঁর ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হতে পারে!

মারিয়ম তাঁর স্বামীর সঙ্গে আলোচনা করেন, তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু মারিয়মের কথায় কান দেননি তাঁর স্বামী। ফলে এর পর চার বার ত্রিপলেট ও পাঁচ বার কোয়াড্রুপলেট জন্ম দেন মারিয়ম।

সর্বমোট ৪৪ সন্তানের জন্ম দেয়ার পর ব্যাটা বদমাশ মরিয়ম এবং সন্তানদের ফেলে আরেকজনকে বিয়ে করে পালিয়ে যায়। ৪৪ জনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বেঁচে যাওয়া ৩৮ সন্তানের ভরণ পোষনের পুরো দায়িত্ব তারপর থেকে ৩৯ বছর বয়সী মরিয়মই পালন করছেন। শত অভাবের মাঝেও সন্তানদের খাইয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন মারিয়াম। এটা একটা রেয়ার ঘটনা। কোটিতে হয়ত এক জনের এরকম হয়। 

তবুও বললাম একটা বিশেষ কারণে। জংলী, অশিক্ষিতা, আদিবাসী হোক আর শিক্ষিতা সফস্টিকেটেড সিভিলাইজড হোক, মা এর পরিচয় মা ই। এক মায়ের দায়িত্ব নিতে ১০ সন্তানেরও মাঝে মাঝে কষ্ট হয় কিন্তু মা একাই ৩৮ সন্তানের দায়িত্বও হাসিমুখে নেন।

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ৩১ বছর বয়সী প্রেমা সেলভাম সম্প্রতি তার তিন সন্তানকে এক বেলা খাওয়ানোর জন্যে ১৫০ রুপিতে নিজের মাথার চুল বিক্রি করে দেন। চুল বিক্রী করে ৬০ রুপি দিয়ে তিন প্যাকেট ভাত আর অন্যান্য খাবার কিনে সন্তানদেরকে খেতে দিয়ে সেই দৃশ্য চোখ ভরে দেখেন প্রেমা। আহারে মা। 

আমার পরিচিতা এক ভদ্রমহিলা মাত্র ৩২ /৩৩ বছর বয়সে ক্যান্সারে মারা যান। তিন সন্তানের জননী যখন প্রথম প্রথম শারীরীক অসুবিধা বোধ করতেন, তখনও কিছু নয়, মেয়েদের এত নরম হলে চলে না বলে নিজের অসুবিধাকে পাত্তাই দেন নি।

উপসর্গ যখন আরও বেড়েছে তখন সংসারের কাজ থেকে ফুরসত নিয়ে ডাক্তার দেখালেন, ডাক্তার গাদা গাদা টেস্ট ধরিয়ে দিলেন। তারপর বাচ্চাদের ক্লাস টেস্ট, মিড টার্ম নইলে ফাইনাল এই করে করে আর যাওয়াই হয়নি টেস্ট করাতে। বাচ্চাদের পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে পাশ করিয়ে যখন উনি নিজের শরীর পরীক্ষা করালেন তখন তার ক্যান্সারের লাস্ট স্টেজ। মাত্র মাস ছয়েক যুদ্ধ করেই তিন সন্তানকে জীবনের পরীক্ষায় একা ফেলে চলে যান সেই মা। মায়েরা এতই নিঃস্বার্থ যে মাঝে মাঝে এটাও ভুলে যান যে সন্তানের জন্যই তার সুস্থ থাকা, বেঁচে থাকা প্রয়োজন।

বছর দুয়েক আগে একটা ছবি ভাইরাল হয় যেখানে দেখা যায় ৪৪ বছর বয়সী সীমা রানী সরকার তার ১৮ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী পুত্র হৃদয়কে কোলে করে ঢাকা ইউনিভারসিটির ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করাতে নিয়ে যাচ্ছেন। হৃদয় সে বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হয়। মায়ের অনেক রূপ,অনেক ত্যাগের কথা যুগে যুগে শুনেছি কিন্তু সীমা রানী মাতৃত্বের নতুন দৃষ্টান্ত রেখেছেন।

২০১৮ সালে বিবিসির হানড্রেড মোস্ট ইন্সপিরেশনাল এন্ড ইনফ্লুয়েনশিয়াল নারীর লিস্টে সেবার সীমা রানীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং মজার ব্যাপার হল, সীমা রানীই সেই একমাত্র ফুল টাইম মা যে এই রিকগনিশন পেয়েছেন। সীমা রানী প্রমাণ করেছেন একটা শিক্ষিত সমাজের জন্য একটা মা প্রয়োজন। কিন্তু একজন মা এর কাউকে লাগে না।

সম্প্রতি ঢাকারই আরেক মায়ের ঘটনা পড়লাম যিনি তার প্রতিবন্ধী পুত্রের দেখভালের জন্য গত ১৫ বছর বাড়ির বাইরে পা রাখেন নি। ১৫ বছর কোথাও বেড়াতে যান নি। এই মাকে জিজ্ঞেস করেন লকডাউন কত প্রকার ও কি কি? পুত্রের কারণে পনের বছর ধরে হাসি মুখে লকডাউন হয়ে আছেন উনি ।

মায়েরা এমনই। তারা কোন মানুষের পর্যায়ে পড়েনা,কারণ কোন মানুষ এত নিঃস্বার্থ হতে পারে না। মাকে নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মাটির বদলে অন্য কোন ইনগ্রেডিয়েন্ট দিয়ে বানিয়েছেন। মায়ের এই ত্যাগের সামনে একটা কার্ড, একটা ফুল কিছু শুভেচ্ছাবানী, সেলফি তুলে ফেসবুকে পোষ্ট করাটা হল মহাসাগরে এক ফোটা পানি ফেলার মত। তবুও পৃথিবীর সব মাকে “মাদারস ডে” র শুভেচ্ছা।

কারণ ৩৬৫ দিনই মা দিবস এই কথা বলে ৩৬৫ দিনই বঞ্চিত করার থেকে একদিনই না হয় ঢাক ঢোল পিটিয়ে বলি “ভালোবাসি”। উনারা এমনই অদ্ভুত, নিজেদের পাহাড় সমান ত্যাগের বিপরীতে শুধু এইটুকু শুনলেও তারা আনন্দে কেঁদে কেটে ছ্যারাব্যারা করে ফেলেন……।