৬ কোটি টাকা বাঁচাতে ২০০ কোটি টাকা গচ্চা

৬ কোটি টাকা বাঁচাতে ২০০ কোটি টাকা গচ্চা
চার্টার পার্টির ৬ কোটি টাকা জরিমানা এড়াতে যুদ্ধাঞ্চল ইউক্রেনের বন্দরে পাঠিয়ে ২০৪ কোটি টাকার পুরো জাহাজটাই হারাল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। রকেট হামলায় বিধ্বস্ত ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজটি এখন পরিত্যক্ত ঘোষণা।
যুদ্ধাবস্থায় ইউক্রেনে জাহাজটি পাঠানোতে একজনের মৃত্যুর পাশাপাশি জীবন ঝুঁকিতে পড়েন ২৮ জন নাবিক। আর রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জাহাজটি পাঠিয়ে তাদের ভুল সিদ্ধান্তকে আইনের দোহাই দিয়ে ঢাকতে চাচ্ছে। যদিও যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে জাহাজ কিংবা নাবিকের যাওয়ায় আইনে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

গত মাসের ১৫ ফেরুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক ‘জয়েন্ট ওয়ার কমিটি’ ইউক্রেনকে যুদ্ধাঞ্চল ঘোষণা করার পরও তা উপক্ষা করে ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ ঢুকে পড়ে নিষিদ্ধ এলাকা অলভিয়া বন্দরে। যার পরিণতি ২ মার্চ রাতে রকেট হামলায় এক ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যুর পাশাপাশি অনিশ্চয়তায় পড়ে ২৮ জন নাবিকের জীবন।

 ভাড়াটিয়ার ৬ কোটি টাকা জরিমানা এড়াতে ২০৪ কোটি টাকার জাহাজটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত। যদিও মালিকানা প্রতিষ্ঠান বিএসসি বলছে, আইনে বাধ্যবাধকতার কারণে জাহাজটি সেখানে নেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে শিপিং করপোরেশনের নির্বাহী পরিচালক পীযূষ দত্ত বলেন, ‘চার্টাররা যদি যেতে না চাইতো তাহলে আমরা কখনোই জাহাজটি পাঠাতাম না। যেহেতু চার্টাররা যেতে চেয়েছে তাই আইনগতভাবে তাদের বাধা দেওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই।’
কিন্তু বিআইএমসিও ওয়ার রিস্ক ক্লজ ফর টাইম চার্টারিংয়ের ২০১৩ ‘বি’ ধারায় বলা আছে- যুদ্ধ এলাকায় জাহাজের মালিক বা মাস্টার যেতে বাধ্য নন। এ ছাড়া চার্টার পার্টি বিধিমালায় যুদ্ধকবলিত এলাকাতে জাহাজ গমনে নিষেধাজ্ঞা আছে।

অথচ ‘বাংলার অর্জন’ নামে আরেকটি জাহাজ ইউক্রেনের জলসীমা থেকে ২৬ ফেব্রয়ারি ফিরিয়ে আনে বিএসসি। তাহলে কেন বাংলার সমৃদ্ধিকে তখন ফিরিয়ে আনা হয়নি এটিই এখন বড় প্রশ্ন।
২০৪ কোটি টাকায় কেনা ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজটি ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিএসসির বহরে যুক্ত হয়।