৮ জনের মৃত্যুদণ্ড ঝিনাইদহে সেনা সদস্য হত্যায়

৮ জনের মৃত্যুদণ্ড ঝিনাইদহে সেনা সদস্য হত্যায়

ঝিনাইদহে সেনা সদস্য সাইফুল ইসলাম সাইফ (৩০) হত্যা মামলায় ৮ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার খুলনার বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম হাওলাদার এ রায় দেন।

২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট ছোট ভাই নৌবাহিনীর সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম ও শ্বশুর সামসুল মোল্লার সামনে দৃর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. হাফিজ উদ্দিন বিশ্বাস ঝিনাইদহ থানায় পরদিন অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। সাইফুল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ল্যান্স কর্পোরাল পদে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল আর্মি মেডিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত ছিলেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- বংকিরা গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে মো. আকিমুল ইসলাম, মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে মিজানুর রহমান মিজান, সবেদ আলী মোল্লার ছেলে মো. ডালিম মোল্লা, আসাননগর গ্রামের নবীছদ্দিনের ছেলে মো. আব্বাস আলী , খন্দকারপাড়ার রমজান মন্ডলের ছেলে মো. কাশেম মন্ডল, সাহেব আলীর ছেলে মো. ফারুক হোসেন, বংকিরা গ্রামের মো. ইয়াকুব্বার মন্ডলের ছেলে মো. মতিয়ার রহমান ওরফে ফইনে ও এনায়েতপুর গ্রামের দাউদ মন্ডলের ছেলে মো. মোক্তার হোসেন ওরফে মোক্তার মন্ডল। এদের মধ্যে মতিয়ার, মুক্তার ও ডালিম পলাতক রযেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট সাইফুল ইসলাম সাইফ ও তার ছোট ভাই মনিরুল ইসলাম ঝিনাইদহের বংকিরা গ্রাম থেকে সাইফুলের শ্বশুর সামসুল মোল্লাকে আনতে মোটর সাইকেলযোগে বদরগঞ্জ বাজারে (দশমাইল নামক স্থান) যান। সেখান থেকে ফেরার পথে বেলতলা দাড়িমাঠ নামক স্থানে পৌঁছলে তারা দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাস্তায় একটি গাছ ফেলানো দেখতে পান। সেখানে গাড়ি থামলে অজ্ঞাতনাম ৫/৬ জন তাদের ঘিরে ফেলে। এ সময় তারা ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করলে এক দুর্বৃত্ত ধারাল অস্ত্র দিয়ে সাইফুল ইসলামের ঘাড়, হাতসহ বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

২০১৯ সালের ৩০ জুন মামলার তদন্ত শেষে ঝিনাইদহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি-তদন্ত) মো. মহসীন হোসেন ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

চলতি বছরের ৬ অক্টোবর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালে পাঠানো হয়। মামলা নং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ০২/২১। জে আর নং ৪৬৬/১৮। আদালত বিভিন্ন কার্যদিবসে ২৪ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায়ের দিন ধার্য করেন।

নিহত সাইফুল ইসলাম সাইফের ছোটভাই মনিরুল ইসলাম বলেন, ভাইয়ের মৃত্যুর পর দীর্ঘ প্রতিক্ষা করছি। এবার ন্যায়বিচার পাবো। আমাদের সামনে নির্মমভাবে ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। রায় দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।